
কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ৯টি দানবাক্স সিন্দুক খুলে এবার পাওয়া গেছে ২৮ বস্তা টাকা।
৩ মাস ২৬ দিন পর আজ শনিবার (১৭ আগস্ট) ২০২৪ খ্রীঃ সকাল ৮টায় এ দানবাক্সগুলো খোলা হয়।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ ও সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার তরিকুল ইসলাম এর উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এ সময় বিপুল সংখ্যক সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, ৩ মাস ২৬ দিন পর শনিবার সকালে পাগলা মসজিদের ৯টি দানবাক্স খোলা হয়েছে এতে পাওয়া যায় ২৮ বস্তা টাকা। মসজিদের দোতালায় এনে টাকা গণনার কাজ চলছিল।
গণনার শেষে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে ৯টি দানবক্সে পাওয়া গেল, ৭ কোটি ২২ লক্ষ ১৩ হাজার ৪৬ টাকাসহ স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা।
জনশ্রুতি আছে, কোনো এক সময় একজন আধ্যাত্মিক পাগল সাধকের বাস ছিল কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া ও রাখুয়াইল এলাকার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদীর মধ্যবর্তী স্থানে জেগে ওঠা চরে। ওই পাগল সাধকের মৃত্যুর পর এখানে নির্মিত মসজিদটি পাগলা মসজিদ হিসেবে পরিচিতি পায়। পাগলা মসজিদে মানত করলে মনের আশা পূর্ণ হয়। এমন ধারণা থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসংখ্য মানুষ এ মসজিদে দান করে থাকেন। বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার এখানে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে।
এর আগে সর্বশেষ ২০ এপ্রিল পাগলা মসজিদের ৯টি দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন রেকর্ড ৭ কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৭ টাকা পাওয়া যায়, যা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছিল। ২২০ জনের একটি দল দীর্ঘ সাড়ে ১৮ ঘণ্টায় এ টাকা গণনা কাজে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও দানবাক্সে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়।
আরো লক্ষ্য করা গেছে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করেছিলেন কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার ওয়াকফ ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ আলাউদ্দিন তাছাড়া , এবার টাকা গণনার কাজে, ৭০ জন ব্যাংক কর্মকর্তা সহ ২৫৮জন শিক্ষার্থীও গণনারও কাজে অংশ গ্রহণ করেন।
Leave a Reply