আজিজুল হক ফাহিম :
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া জমশেদ ও আকলিমাগং কর্তৃক টাকা আত্নসাতের বিচার চাওয়ায় স্প্রে-মেরে হত্যার চেষ্টা ও লুটপাটের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগীরা।
আজ ১১ই জানুয়ারি (শনিবার) দুপুরে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন আহত ও ভোক্তভোগী ফরিদা, মাহিয়া, পান্না ও খোকন মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠে ফরিদা বলেন, আমি অসহায় বিধবা আমার দুটি এতিম মেয়ে নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় জীবন করছি। আমি আমার জমি বিক্রির ৩৫ লক্ষ্ টাকা কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লওনা গ্রামের মৃত আহাব উদ্দিনের ছেলে আমার আত্বীয় মোঃ জমসেদ উদ্দিন রজনীগন্ধা সমবায় সমিতি লিঃ, গভঃ রেজি নং ৩০, গত ১ মার্চ ২০২০খ্রিঃ আমার কাছ থেকে নেন।
উক্ত টাকা ফেরৎ না দেওয়ায় আমি প্রথমে উকিল নোটিশ ও পরে ৩নং আমল গ্রহনকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কিশোরগঞ্জে একটি মামলা দায়ের করি, যাহার সিআর পিটিশান মোকদ্দমা নং ৪৬২/২৩।
উক্ত মামলা করার পর থেকে জমসেদ গংরা আমাকে ভয়ভীতি হুমকি দিয়ে আসছে মামলা তুলে নিতে। মামলা না তোলার কারনে গত ২০ নভেম্বর ২০২৩ দিবাগত রাতে জমসেদ তার লোকজন নিয়ে আমার বাড়িতে হামলা করে আমাকে শ্রীলতাহানী করে হত্যার চেষ্ঠা করেন। এই ঘটনায় আমি কিশোরগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২ একটি মামলা করি যাহার নং ২২০/২৩।
এসব মামলা ও টাকাকে কেন্দ্র করে জমসেদ গংরা পাকুন্দিয়া পরিবার পরিকল্পনা সহকারী পদে কর্মরত আকলিমা আক্তার শুভাকে হাত করে সুকৌশলে ষড়যন্ত্র করে আমার ২ মেয়ে পাকুন্দিয়া পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের চাকরিরত মারিয়া আক্তার সুরাইয়া হতে ছয় লক্ষ টাকা জিপিএ ফান্ট থেকে উত্তোলন করে ও মাহিয়া আক্তার রোকাইয়ার নিকট থেকে ৩ লক্ষ, মোট নয় লক্ষ্ টাকা হাতিয়ে নেয় আকলিমা আক্তার শোভা।
এ বিষয়ে গত ২৮ নভেম্বর ২০২৪খ্রিঃ কিশোরগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে ও ১ ডিসেম্বর ২০২৪ খ্রিঃ তারিখ আমি একটি লিখিত অভিযোগ দেই। সেই সাথে খোশনারা নামে আরেক জন আকলিমার বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৭ লক্ষ্ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার আরও একটি অভিযোগ করেন।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১ জানুয়ারী ২০২৫ খ্রিঃ তারিখ পাকুন্দিয়া পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে একটি তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত তদন্তে আমি আমার মেয়েকে নিয়ে গেলে আকলিমার সন্ত্রাসী বাহীনি আমাদের উপর ছড়াও হয় ও অভিযোগ তুলে নিতে হুমকি দেয়।
অন্যথায় আমাদেরকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি ও গালি গালাজ করে। একই সাথে অন্য অভিযোগকারী খোশনারাকে উপস্থিত হতে দেয়নি তারা। আকলিমা ও জমসেদ গংরা যৌথ ষড়যন্ত্রের ফলে আজ আমার পরিবার নিঃস্ব। তারা গত ৬ জানুয়ারী ২০২৫খ্রিঃ তারিখ রাতে আমার বাড়ীর বসত ঘরে সুকৌশলে প্রবেশ করে স্প্রে মেরে আমার পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করে ব্যর্থ হয়। স্প্রের কারনে আমরা অসুস্থ হলে আত্মীয়রা আমাদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।
এই সুযোগে গত ৭ জানুয়ারী রাতে আমার বাড়ী ঘরে হামলা ও লুটপাট করে তারা। আমি হাসপাতালে অসুস্থ্য অবস্থায় বুধবার ৯৯৯ ফোন করে কোন ফলাফল না পাইয়া ঐদিন রাতে কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপারকে বিষয়টি অবহিত করি।
তিনি থানায় যাওয়ার পরমর্শ দেন। অসুস্থ্য অবস্থায় আমি আমার মেয়েকে নিয়ে থানায় গিয়ে জমসেদ ও আকলিমার লোকজনকে দেখতে পাই। আমার বিষয়টি ওসিকে অবগত করলেও আমাকে কোন ধরনের আইনী সহায়তা দেয়নি এমনকি আমি বারবার আমার বাড়ী পরিদর্শন করার কথা বল্লেও কোন পুলিশ আসেনি।
ফলে আমি ও আমার পরিবারের লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় জীবন যাপন করছি। যে কোন সময় জমসেদ ও আকলিমা গংরা আমাদের হত্যাসহ জানমালের ক্ষয়ক্ষতি করিবে তাদের সিন্ডিকেটের কবলে থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী জিম্মী।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি ও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানান।
এ ব্যাপারে পাকুন্দিয়া থানা অফিসার্স ইনচার্জ ওসি সাকাওয়াত হোসেন জানান, অভিযোগটি লিখিত আকারে নিয়ে আসতে পরামর্শ দিয়েছিলাম সে আর আমার কাছে আসেনি।