
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় গভীর রাতে মাদক মামলার এক আসামির বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় জনতার তোপের মুখে পড়েছেন পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই)। পরকীয়া ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে তাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছে গ্রামবাসী। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বলিভদ্রদিয়া গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ কর্মকর্তার নাম মো. ইমরান হাসান (৪০)। তিনি রামকান্তপুর ইউনিয়নের সহকারী বিট কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বলিভদ্রদিয়া গ্রামের মো. মেহেদী হাসানের (২৮) বিরুদ্ধে সালথা ও পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই মামলার সূত্র ধরে এএসআই ইমরান প্রায়ই গভীর রাতে সাদা পোশাকে মেহেদীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। দীর্ঘদিন ধরে তার এই রহস্যজনক যাতায়াত নিয়ে গ্রামবাসীর মনে সন্দেহ ও গুঞ্জন চলে আসছিল।
ঘটনার রাতে এএসআই ইমরান আবারো সাদা পোশাকে ওই বাড়িতে গেলে ওত পেতে থাকা স্থানীয় জনতা তাকে হাতেনাতে আটক করে। এসময় উত্তেজিত জনতা তাকে লক্ষ্য করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের এমন অপেশাদার আচরণ এবং জনরোষের মুখে পড়ার ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।