
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ১৬ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর থেকে আসামিরা ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অনবরত হুমকি-ধমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কিশোরগঞ্জ পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)-কে বিষয়টি অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে হোসেনপুর উপজেলার মেছেরা এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে সাকিবকে। এ ছাড়া মামলায় সহযোগকারী হিসেবে অন্য অভিযুক্তরা হলেন—একই এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে নুরুল আমীন,মৃত মাসুমের ছেলে রুসুল মিয়া এবং মৃত জয়নাল মিয়ার ছেলে মোঃ ফারুক মিয়া।
ভুক্তভোগী কিশোরী মাফুজা আক্তারের বাবা ও মামলার বাদী কুতুবউদ্দিনের অভিযোগ, আসামিরা তাদের প্রতিবেশী। প্রধান অভিযুক্ত সাকিব দীর্ঘদিন ধরে তার নাবালিকা মেয়েকে কু-প্রস্তাব ও নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এ বিষয়ে সাকিবের অভিভাবকদের কাছে বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাননি কুতুবউদ্দিন। উল্টো সাকিবের পরিবার তাকে হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয় এবং সাকিবকে আরও উসকে দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায়, গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কুতুবউদ্দিন স্থানীয় মেছেরা চেয়ারম্যান বাজারে যান। সে সময় তার মেয়ে বাড়িতে একা রান্না করছিল। বাড়ি জনশূন্য থাকার সুযোগে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা সাকিব ও তার সহযোগীরা ঘরে ঢুকে কিশোরীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়।
বাদী কুতুবউদ্দিন জানান, ঘটনার পর অনেক খোঁজাখুঁজি করে মেয়েকে না পেয়ে তিনি আসামিদের দ্বারস্থ হন। তখন আসামি রসূল ও ফারুক বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য চাপ দেয় এবং মেয়েকে উদ্ধার করে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে তারা কোনো উদ্ধার তৎপরতা চালায়নি। বাদীর দৃঢ় বিশ্বাস, সাকিব তার নাবালিকা মেয়েকে কোনো গোপন স্থানে আটকে রেখে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করছে।
নিরুপায় হয়ে কুতুবউদ্দিন বাদী হয়ে ২৮/৪/২০২৬ তারিখ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। তবে মামলা করার পর থেকেই আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য পরিবারটিকে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে আসছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী আসাউজ্জামান জুয়েল জানান, কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে সাকিবসহ ৪ জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে কিশোরগঞ্জ পিবিআই-কে ঘটনার সুষ্ঠু অনুসন্ধান করে দ্রুত আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ প্রদান করেছেন।