
জামাল উদ্দিন:
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের নিলগঞ্জ রেলস্টেশন সংলগ্ন রেজিয়া সামাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি টিনশেড সেমিপাকা ভবন মধ্যরাতে চৈত্রের ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে আকস্মিক ঝড়ে বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনটির টিনের চাল উড়ে যায় এবং ভবনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে। ঝড়ে ছাদের পানির ট্যাংকিও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং টিনের অংশ আশপাশের জমিতে ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এখানে ১০ জন শিক্ষক, ১ জন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী এবং ৪ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক( ভারপ্রাপ্ত ) মুহাম্মদ ফেরদৌস জানান, আগামী ২৯ মার্চ থেকে বিদ্যালয় খোলার কথা রয়েছে। তবে ভবনটি ভেঙে পড়ায় স্বাভাবিকভাবে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, নতুন তিনতলা ভবন থাকলেও সেখানে একসঙ্গে সব শিক্ষার্থীর ক্লাস নেওয়া যায় না। আগে পুরোনো ভবনেও ক্লাস নিতে হতো। এখন সেটি না থাকায় বড় সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
হাজি মোমতাজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. শামছুজ্জামান এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবুল হাসেম রেশু মিয়ার ছেলে ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মনিরুজ্জামান মামুন জানান, অতীতেও ১৯৯৬ সালে একই ধরনের ঝড়ে ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তিনি বলেন, তৎকালীন নাইটগার্ড মো. সিদ্দিক গভীর রাতে তাদের বাড়িতে গিয়ে তার বাবাকে ঘুম থেকে ডেকে ভবন ভেঙে যাওয়ার খবর দেন। পরদিন সকালে বাবার সঙ্গে তিনিও বিদ্যালয়ে গিয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা টিনশিটগুলো গুছিয়ে রাখেন। তিনি দ্রুত শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
এলাকার ইউপি সদস্য আরমান হোসেন উজ্জল জানান, রাতের ডিউটিতে থাকা নাইট গার্ড মো. কামরুল ইসলাম ঝড়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সকালে স্থানীয়রা গিয়ে ছড়িয়ে থাকা টিন সংগ্রহ করে নিরাপদ স্থানে রাখেন। তিনি দ্রুত বিদ্যালয়টি মেরামতের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এছাড়া, সাবেক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. কামরুজ্জামান বিপ্লবও দ্রুত পুনঃসংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংস্কার না হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
Leave a Reply