
আইন প্রনয়নের ইতিহাসঃ ১৮৫৯ সালের পূর্বে এই ভারতীয় উপমহাদেশে দেওয়ানি মামলা বিচার করার জন্য কোন বিধিবদ্ধ আইন ছিল না। ব্রিটিশ শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত প্রথম ল-কমিশন দেওয়ানি কার্যবিধির একটি খসড়া প্রস্তুত করেছিল কিন্তু বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে সেটি কার্যকারিতা লাভ করেনি। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ল কমিশন ১৮৫৭ সালে স্যার বারনেস পিকক এর নেতৃত্বে দেওয়ানি কার্যবিধির একটি খসড়া বিল পেশ করেন এবং এই বিলটি ১৮৫৯ সালের ৭ নং আইন হিসেবে পাশ করা হয়। পরবর্তীতে এই কার্যবিধি বিভিন্ন সময়ে সংশোধিত হয় এবং ১৮৭৭ সালে নতুন দেওয়ানি আইন দ্বারা উক্ত কার্যবিধি প্রতিস্থাপিত হয়। ১৮৮২ সালে এই কার্যবিধি পুনরায় সংশোধিত হয়। এভাবে বিভিন্ন সংশোধনির পর সর্বশেষ ২১শে মার্চ ১৯০৮ সালের ৫নং আইন দ্বারা বর্তমান দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ পাশ করা হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও এই কার্যবিধি কয়েকবার সংশোধিত হয়। Law Reforms Ordinance, 1978 এবং the Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance, 1983 এর মাধ্যমে দেওয়ানি কার্যবিধিতে মৌলিক কিছু পরিবর্তন আনা হয়। ১৯৬৯ সালে দেওয়ানি কার্যবিধিতে। temporary injunction এবং Ad interim injunction সম্পর্কে কিছু বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পুনরায় ২০০৩ সালে সংশোধনির মাধ্যমে দেওয়ানি কার্যবিধিতে Mediation এবং Arbitration সম্পর্কে কিছু বিধান সংযোজন করা হয়। বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা হ্রাস করার উদ্দেশ্যে ২০০৬ সালে এই কার্যবিধি আরেকবার সংশোধিত হয়। ২০১২ সালে দেওয়ানি কার্যবিধি সর্বশেষ সংশোধন হয়।
দেওয়ানী কার্যবিধি তত্ত্বগত না পদ্ধতিগত আইনঃ তত্ত্বগত আইন (Substantial Law) কোন অধিকার বা শাস্তিকে সংজ্ঞায়িত করে অপরদিকে পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law) উক্ত অধিকার আদায়ের বা শান্তি কার্যকরের পদ্ধতি নির্ধারণ করে। দেওয়ানি কার্যবিধি একটি পদ্ধতিগত আইন। দেওয়ানি অধিকার সমূহ বলবত করার বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে দেওয়ানী কার্যবিধি আলোচনা করে। দেওয়ানি কার্যবিধি কোন অধিকারকে সৃষ্টি করেনি, কোন অধিকার হরনও করেনি। দেওয়ানী আদালত সমূহ মামলার বিচারকালীন কি পদ্ধতি অনুসরন করবে দেওয়ানী কার্যবিধি তাই নিয়ে আলোচনা করে।
পদ্ধতিগত আইন সবসময় প্রনয়নের পর থেকে কার্যকর হয়, একে Retrospective effect দেয়া যায়না অর্থাৎ পূর্ব
থেকে বলবত করা যায়না ।কোন মামলার বিচারিক কার্যক্রম পেন্ডিং থাকাবস্থায় সংসদ যদি পদ্ধতিগত আইনে কোন সংশোধন করে থাকে তবে উক্ত সংশোধিত পদ্ধতিতেই বিচারকার্য সমাপ্ত করতে হবে। আসামী পূর্বের পদ্ধতি বহাল রাখার আবেদন করলে তা গ্রহণযোগ্য হবেনা।
Leave a Reply