
আফসার উদ্দিন, পাকুন্দিয়া প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জ জেলা পাকুন্দিয়া উপজেলায় পোড়াবাড়ি গ্রামে ছোট ভাইকে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদসহ জমি জবর দখলের ও প্রাণে মারার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চার বড় ভাই মো. সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, মো. বজলুর রহমান ভূঁইয়া, মো. নুরুল ইসলাম ভূঁইয়া ও কামরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ছোট ভাই মো. নজরুল ইসলাম।
রবিবার (১৯ অক্টোবর২০২৫) সকালে পৌর সদরের একটি অনলাইন গণমাধ্যমের অফিসে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় ভুক্তভোগীর ছেলে মো. এহসানুল হকও উপস্থিত ছিলেন।
মো. সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, মো. বজলুর রহমান ভূঁইয়া, মো. নুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, মো. কামরুল ইসলাম ভূঁইয়া ও মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া তারা পাঁচ ভাই। উপজেলার নারান্দী ইউনিয়নের পোড়াবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা তারা। তাদের বাবার নাম মৃত আ: আলী ভূঁইয়া।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি আনুষ্ঠানিক ভাবে ভাগ-বাটোয়ারা হয়নি। ২৫ বছর ধরে গ্রামের পোড়াবাড়িয়া ও কর্শাকুড়িয়াল মৌজার ছয়টি দাগে তার ভাগের অন্তত এক একর ফসলি জমি চার ভাই মিলে জোরপূর্বক দখল করে ভোগ করছেন। আমার প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে দিচ্ছেন না তারা। সম্পত্তির ভাগ দাবি করলে তারা আমাদের অশালীন ভাষায় গালাগাল করে ও মারধর করতে উদ্যত হয়। পরে বাধ্য হয়ে ২০০০ সালে কিশোরগঞ্জ সহকারি জজ আদালতে বাটোয়ারা মামলা দায়ের করি। ২০২২ সালে আদালত মামলার রায় ও ডিক্রি আমার পক্ষে দেন। বিবাদীরা আদালতে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। আদালত তাদের আপিল খারিজ করে দেন। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে সিরাজুল ইসলাম ও তার ভাতিজারা আমাকে ও আমার ছেলেকে মারধর করে। পরে এলাকাবাসি এগিয়ে এসে আমাদের রক্ষা করে।
এ ঘটনায় আমার ছেলে এহসানুল হক বাদী হয়ে পাকুন্দিয়া থানায় একটি সাধারন ডায়েরি(জিডি) করে। নজরুল ইসলামের অভিযোগ, জিডির পর থেকে এহসানুল হককে প্রাণে মারার হুমকি দিচ্ছে তারা। তাদের ভয়ে এহসানুল হক বাড়ি ছেড়ে তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কিশোরগঞ্জ শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। আমরা এই মুহুর্তে দিশেহারা। কি করব বুঝতে পারছিনা। তাই এ ব্যাপারে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করছি।
এসব অভিযোগ নিয়ে অভিযুক্ত বড় ভাই মো. সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়। তিনি তার ছোট ভাইকে প্রাণে মারার হুমকি দেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমার পিতা মৃত্যুর আগে ১৯৭৩ সালে আমার ও আমার ছোট ভাই বজলুর রহমানের নামে ৫২ শতাংশ জমি হেবা করে দিয়েছেন। পরে আবার ১৯৭৪ সালে একই দাগ থেকে ছোট ভাই নজরুল ইসলামের নামেও ৫২ শতাংশ জমি হেবা করে দিয়েছেন। ওই জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। আদালত যে রায় দেবে আমরা সেই রায় মেনে নেব।
Leave a Reply