ষ্টাফ রিপোর্টার
জমি বিক্রির কথা বলে বায়না বাবদ ৫ লাখ টাকা নিয়ে জমি রেজিস্ট্রি না দেওয়া এবং পরবর্তীতে টাকা পাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করার অভিযোগে এক নারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে সংঘটিত এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তাকে ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত জেসমিন আক্তার নিজ প্রয়োজনে জমি বিক্রির কথা বললে স্থানীয় বাসিন্দা হালিমা খাতুন তা ক্রয়ে সম্মতি জানান। দরকষাকষি শেষে জমিটির মোট মূল্য ৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরে হালিমা খাতুন গত ৫ সেপ্টেম্বর প্রবাসে থাকা তাঁর ছেলে মাসুদ মিয়ার নামে জমিটি ক্রয়ের জন্য জেসমিনকে বায়না বাবদ ৫ লাখ টাকা প্রদান করেন। কথা ছিল এক মাসের মধ্যে ‘সাফ-কাওলা’ দলিলের মাধ্যমে জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হবে। টাকা গ্রহণের পর অভিযুক্ত জেসমিন জমির মূল দলিল ও দখল হালিমার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
তবে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও জমি রেজিস্ট্রি না করে হরেক অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন জেসমিন। এমনকি হালিমা খাতুনের ছেলে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সঙ্গে নিয়ে জমি রেজিস্ট্রির জন্য চাপ দেওয়া হলে জেসমিন প্রকাশ্যে বায়নার টাকা পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং জমি রেজিস্ট্রি করে দেবেন না বলে জানান।
পরবর্তীতে করিমগঞ্জ থানায় অভিযোগ নিয়ে যাওয়া হলে পুলিশ ভুক্তভোগীকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ-বৈঠকেও বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আদালতে আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নেন ভুক্তভোগী হালিমা খাতুন। দরবার-সালিশের এক পর্যায়ে অভিযুক্ত নারী তাঁর স্বামী দুলালকে তালাক দিয়ে চলে যান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসাউজ্জামান জুয়েল জানান, “হালিমা খাতুন বাদী হয়ে জেসমিন আক্তারের বিরুদ্ধে গত ১৭ সেপ্টেম্বর দণ্ডবিধির ৪২০ (প্রতারণা) ও ৪০৬ (বিশ্বাসভঙ্গ) ধারায় আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন।”