
শেখ ওবায়দুল হক, স্টাফ রিপোর্টার:
কিশোরগঞ্জের নিকলীতে স্কুল ঘরে সন্ধায় অগ্নিকান্ডের পর সকালে ধ্বংস স্তুপে মিলেছে মানব কঙ্কাল। এ নিয়ে এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে কৌতুহলে সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দামপাড়া কারার মাহতাব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে । গতকাল বুধবার সন্ধায় বিদ্যালয়ের পিছনে একটি পরিত্যক্ত টিনসেট ঘরে আগুন লাগে। সংবাদ পেয়ে উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের ফায়ার ফাইটাররা এসে আগুন নিভিয়েছেন। এ সময় এলাকাবাসী, পুলিশ ফায়ার ফাইটার ও উৎসুক দর্শনার্থীরা কোন কঙ্কাল বা লাশ দেখতে পায়নি বলে যানা যায়।
গতকাল বৃহস্প্রতিবার সকালে পুড়ে যাওয়া স্কুল ঘর দেখতে স্থানীয় লোকজন ভীড় জমায়। এ সময় উৎসুক মানুষ জন পুড়ে যাওয়া ঘরের ধ্বংস স্তুপের উপর মাংস বিহীন মাথা বিচ্ছিন একটি মানব কঙ্কাল দেখতে পান। বিষয়টি জানা জানি হলে, নিকলী থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এর লোকজন সহ স্কুল কর্তৃপক্ষ ঘটনা স্থলে যান। কঙ্কালটি দেখে তারা অবাক হয়ে যান।
অপর দিকে গত ১৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দিন থেকে দামপাড়া গোলহাটি গ্রামের আনোয়ার বেগম উরফে আঙ্গুরা (৬০) নামের এক নারী নিখোজ ছিলেন। ঐ নারী দামপাড়া স্কুল এলাকায় নিয়মিত গাছের শুকনো পাতা ও লাকড়ি কুড়াতেন। নিখোজ হওয়ার পর থেকে আঙ্গুরার ছেলে ফেরদৌস (৪০) সম্ভাব্য স্থান ও স্বজনদের কাছে খুজ নিয়ে তার কোন সন্ধান পাননি বলে জানান ফেরদৌস ও আঙ্গুরার স্বজনরা ।
স্কুলের পুড়ে যাওয়া ঘরে একটি কঙ্কালের খবর পেয়ে আঙ্গুরার স্বজনরা ঘটনাস্থলে আসেন। আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরের দক্ষিণ পাশের নদীর তীরে আঙ্গুরা বেগমের ব্যবহারকৃত উড়না দেখে ফেরদৌস তার মায়ের উড়না বলে চিহিৃত করেছেন। ঘটনাস্থলের কাছে উড়না দেখে ফেরদৌস ও আঙ্গুরার স্বজনরা কঙ্কালটি আঙ্গুরার বলে দাবী করেন।
এ ঘটনার খবর পেয়ে, কিশোরগঞ্জ জেলা ক্রাইম এন্ড অবস এডিশনাল পুলিশ সুপার মুকিত সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরার পুটেজ দেখেন এবং নিখোজ নারীর স্বামী সমেন আলী দফাদার ও ছেলে ফেরদৌস সহ বিদ্যালয়ের নাইট গার্ড মামুন মিয়া (৩৫) কে পৃথক পৃথক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। নিখোজ নারীর স্বামী ও ছেলে জানান, তাদের সাথে স্থানীয় কোন ব্যক্তি, পারিবারিক ও সম্পত্তি নিয়ে কারো সাথে কোন আক্রোশ নেই বলে তারা জানিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা স্বীক্ষার করে নিকলী থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দিন, এ প্রতিনিধিকে জানান, স্কুলের পরিত্যক্ত ঘরে আগুন লাগা এবং পর দিন ধ্বংস স্তুপের উপর কঙ্কাল পাওয়া একটি রহস্যজনক ঘটনা।
এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে নিকলী থানা ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে কাজ চলছে। এছাড়াও জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিমের কাছে কঙ্কালটি ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোন মামলা বা কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।
Leave a Reply