ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের পশ্চিম লক্ষীপুর গ্রামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন নারীর কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি ও ছবি সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীরা জানান, পশ্চিম লক্ষীপুর এলাকার সবুজ মিয়া ও তার স্ত্রী সুমাইয়া খানম বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলেন। এ সময় অনেকেই তাদের কাছে এনআইডি কার্ডের ফটোকপি ও ছবি জমা দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ পরবর্তীতে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নারী বলেন, আমরা শুনেছি সরকারিভাবে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। সেই বিশ্বাস থেকেই কাগজপত্র দিয়েছি। পরে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সবুজ মিয়া বলেন, আমি নিজে মাঠে যাইনি, আমার স্ত্রী গেছে। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না।
এদিকে তার স্ত্রী সুমাইয়া খানম দাবি করেন, তারা একটি ব্যাংকের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, আমরা ব্যাংকের সদস্য সংগ্রহের কাজ করছি। মূলত অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজনেই বাড়ি বাড়ি যাওয়া হয়েছে। আমি বলেছি, ঈদের পর ফ্যামিলি কার্ড চালু হতে পারে, তখন অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন হতে পারে। তবে আমি সরাসরি কাউকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলিনি।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তারেক হাসান বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ঝিনাইদহে এখনো চালু হয়নি। কেউ যদি এমন আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কাগজপত্র সংগ্রহ করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি কোনো ঘোষণা ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের ঘটনায় সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।