ষ্টাফ রিপোর্টার: ঠাকুরগাঁও ২ আসনের টানা সাতবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব দবিরুল ইসলামের জানাজায় শরিক হতে ৭ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন তাঁর বড় ছেলে, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক এমপি মাজহারুল ইসলাম সুজন।
আজ শনিবার ৩০ শে মে সকালে দিনাজপুর কারাগার থেকে কড়া পুলিশি পাহারায় ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে পৌঁছে বাবার শেষ বিদায়ে অংশ নিয়েছেন তিনি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ সাবেক এমপি দবিরুল ইসলাম। মৃত্যুকালে তিনি ২ ছেলে ২ মেয়েসহ বহু নেতা-কর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা থেকে বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যোগে মরহুমের মরদেহ বালিয়াডাঙ্গী সমির উদ্দিন কলেজ মাঠে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়িতে নেওয়া পর বিকেল ৩টায় শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ মাঠে জানাজা শেষে বড়বাড়ী গ্রামের পারিবারিক গোরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে।
১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্ম নেওয়া দবিরুল ইসলাম ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। শুরুতে তিনি ৮ নং বড়বাড়ী ইউনিয়নের তিন মেয়াদে ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে তৃণমূলের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করেন। রাজনৈতিক জীবনের প্রথমাংশে তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
এরপর ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে তিনি রেকর্ড সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সিপিবির টিকিটে বিজয়ী হওয়ার পর, ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য হন তিনি। সংসদীয় কার্যক্রমেও তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য; তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, সমাজকল্যাণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়াও দীর্ঘদিন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।
ঠাকুরগাঁও-২ আসনের স্থানীয় সরকার ও জাতীয় রাজনীতিতে দবিরুল ইসলামের পরিবারের প্রভাব ছিল বেশ সুপ্রতিষ্ঠিত। তাঁর বড় ছেলে মাজহারুল ইসলাম সুজন ২০২৪ সালের নির্বাচনে এই আসনের এমপি হন। এছাড়া তাঁর মেঝো ভাই মোহাম্মদ আলী উপজেলা চেয়ারম্যান, ছোট ভাই সফিকুল ইসলাম ইউপি ও দুই মেয়াদে উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাতিজা আলী আসলাম জুয়েল উপজেলা চেয়ারম্যান এবং অন্য এক ভাতিজা টানা তিনবার বড়বাড়ী ইউপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দবিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং ৩ অক্টোবর তিনি গ্রেপ্তার হন। দীর্ঘদিন কারাবাসের পর সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যান এবং সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অন্যদিকে, একই সময়ে দায়ের হওয়া মামলায় তাঁর ছেলে সাবেক এমপি সুজন বর্তমানে দিনাজপুর কারাগারে বন্দি রয়েছেন, যিনি বাবার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে আজ প্যারোলে মুক্তি পেলেন।